শুরু করা
ফেসবুক পেজ থেকে নিজের অনলাইন শপ: কেন দরকার, কীভাবে শুরু করবেন
· 4 মিনিটে পড়ুন
বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছোট অনলাইন ব্যবসা শুরু হয় একটা ফেসবুক পেজ দিয়ে। শুরুর জন্য এটা দারুণ — খরচ নেই, ক্রেতারা আগে থেকেই ফেসবুকে আছেন। কিন্তু অর্ডার বাড়তে শুরু করলেই কিছু সমস্যা চোখে পড়ে, যেগুলো শুধু পেজ দিয়ে সমাধান করা যায় না।
শুধু ফেসবুক পেজে বিক্রির সমস্যাগুলো
১. ইনবক্সে অর্ডার হারিয়ে যায়। একদিনে ৫০টা মেসেজ এলে কে কী চেয়েছে, কোন সাইজ, কোন ঠিকানা — সব মনে রাখা কঠিন। একটা মেসেজ মিস হলেই একটা বিক্রি হাতছাড়া।
২. "দাম কত?" প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই দিন শেষ। প্রতিটি ক্রেতাকে আলাদা করে দাম, সাইজ, ডেলিভারি চার্জ বলতে হয়। যিনি রাত ১২টায় কিনতে চাইছিলেন, উত্তর না পেয়ে তিনি অন্য পেজে চলে যান।
৩. ক্রেতার আস্থা কম। নতুন ক্রেতা একটা পেজ দেখে নিশ্চিত হতে পারেন না এটা আসল ব্যবসা কিনা। নিজের ঠিকানা (যেমন yourshop.com), পরিষ্কার দাম, রিটার্ন নীতি আর ট্র্যাকিং পেজ থাকলে আস্থা অনেক বাড়ে।
৪. অ্যাডের হিসাব মেলে না। ফেসবুকে বুস্ট করলেন, মেসেজ এল, কিন্তু কয়টা আসলে অর্ডার হলো? ওয়েবসাইটে Facebook Pixel বসালে কোন অ্যাড থেকে কয়টা অর্ডার এল তা মাপা যায়।
৫. পেজ বন্ধ হলে ব্যবসা বন্ধ। পেজ রেস্ট্রিক্টেড বা হ্যাক হলে সব ক্রেতার তথ্য আর অর্ডার হিস্ট্রি এক মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারে। নিজের ওয়েবসাইটে অর্ডার আর ক্রেতার তালিকা আপনার কাছেই থাকে।
ফেসবুক পেজ বাদ দিতে হবে না
একটা ভুল ধারণা আছে যে ওয়েবসাইট মানে ফেসবুক ছেড়ে দেওয়া। আসলে উল্টো। ফেসবুক থাকবে ক্রেতা আনার জায়গা হিসেবে — পোস্ট, লাইভ, অ্যাড। আর ওয়েবসাইট হবে অর্ডার নেওয়ার জায়গা। পোস্টের নিচে প্রোডাক্টের লিংক দিন, ক্রেতা ক্লিক করে নিজেই নাম-ফোন-ঠিকানা দিয়ে অর্ডার করবেন। আপনার কাজ শুধু অর্ডার কনফার্ম করে কুরিয়ারে পাঠানো।
একটা ভালো অনলাইন শপে যা থাকা দরকার
বাংলাদেশের ক্রেতার কথা মাথায় রেখে কয়েকটা জিনিস না থাকলেই নয়:
- ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD): এখনও বেশিরভাগ ক্রেতা হাতে পণ্য পেয়ে টাকা দিতে চান। অর্ডার করতে অ্যাকাউন্ট খোলা বা অনলাইন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক হলে অনেকেই ছেড়ে চলে যান।
- এক পাতার অর্ডার ফর্ম: প্রোডাক্ট পেজেই নাম, ফোন, ঠিকানা, সাইজ আর পরিমাণ — কার্ট বা আলাদা চেকআউট ধাপ ছাড়া। ফেসবুক অ্যাড থেকে আসা ক্রেতার জন্য এটাই সবচেয়ে কাজের। (বিস্তারিত: ওয়ান-পেজ অর্ডার ফর্ম)
- ডেলিভারি চার্জ আগেই দেখানো: ঢাকার ভেতরে আর বাইরে কত, কতদিনে পৌঁছাবে — চেকআউটের আগেই।
- WhatsApp/Messenger বাটন: যিনি প্রশ্ন করতে চান, এক ক্লিকে যেন পৌঁছাতে পারেন।
- bKash/Nagad অপশন: যাঁরা আগে পেমেন্ট করতে চান বা অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ দেবেন, তাঁদের জন্য।
- কুরিয়ার বুকিং: Steadfast, Pathao বা RedX-এ অর্ডার থেকেই বুক করা গেলে প্রতিদিন ঘণ্টাখানেক সময় বাঁচে।
- মোবাইলে দ্রুত লোড: আপনার বেশিরভাগ ক্রেতা মোবাইল ডেটায় সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে আসবেন।
ধাপে ধাপে শুরু করবেন যেভাবে
ধাপ ১ — প্ল্যাটফর্ম বাছাই। নিজে ডেভেলপার দিয়ে বানানো ব্যয়বহুল আর রক্ষণাবেক্ষণ ঝামেলার। একটা রেডিমেড প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন যেখানে উপরের সবকিছু আগে থেকেই আছে। বাছাইয়ের সময় কী দেখবেন তা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: অনলাইন শপ প্ল্যাটফর্ম বাছাইয়ের চেকলিস্ট।
ধাপ ২ — পণ্য যোগ করা। প্রতিটি পণ্যের জন্য পরিষ্কার ছবি, দাম, সাইজ/রঙের ভ্যারিয়েন্ট আর স্টক সংখ্যা দিন। পণ্য অনেক হলে CSV ফাইল দিয়ে একসাথে ইমপোর্ট করা যায়। কোন তথ্য দিলে পণ্য বেশি বিক্রি হয় তা পড়ুন: যে প্রোডাক্ট পেজ বিক্রি করে।
ধাপ ৩ — ডেলিভারি চার্জ সেট করা। ঢাকার ভেতরে ও বাইরে আলাদা চার্জ, আর ভারী পণ্য হলে ওজন অনুযায়ী বাড়তি চার্জ।
ধাপ ৪ — থিম ও লোগো। আপনার পণ্যের ধরন অনুযায়ী থিম বেছে নিন — গ্যাজেট, ফ্যাশন, বিউটি, গ্রোসারি ইত্যাদি। লোগো আর ব্র্যান্ড কালার বসান।
ধাপ ৫ — ফেসবুক পেজের সাথে যুক্ত করা। পেজের বাটনে ওয়েবসাইটের লিংক দিন, প্রতিটি পোস্টে প্রোডাক্ট লিংক দিন, আর Facebook Pixel বসান যাতে অ্যাডের ফলাফল মাপা যায়।
ধাপ ৬ — প্রথম অর্ডার থেকেই সিস্টেমে চলুন। ইনবক্সে কেউ অর্ডার দিলেও তাঁকে লিংক পাঠিয়ে ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করতে বলুন। এতে সব অর্ডার এক জায়গায় থাকবে, স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা যাবে।
খরচ কেমন
অনেক প্ল্যাটফর্ম প্রতি অর্ডারে কমিশন নেয়, বা পণ্যের সংখ্যা সীমিত রাখে। শুরুতে কম মনে হলেও বিক্রি বাড়লে এগুলোই সবচেয়ে বেশি খরচ হয়ে দাঁড়ায়। তুলনা করার সময় দেখুন: কমিশন আছে কি না, পণ্য আর অর্ডারের সীমা আছে কি না, আর সেটআপ ফি আলাদা কি না।
Byapari-তে প্রতিটি প্ল্যানে পণ্য ও অর্ডার আনলিমিটেড, বিক্রির উপর কোনো কমিশন নেই — একটা ফ্ল্যাট বাৎসরিক দাম। বিস্তারিত প্রাইসিং পেজে।
শেষ কথা
ফেসবুক পেজ আপনার দোকানের সামনের রাস্তা, আর ওয়েবসাইট হলো দোকানটা নিজে। দুটো একসাথে চালালে ইনবক্সের চাপ কমে, অর্ডার হারায় না, আর ক্রেতা আপনাকে একটা আসল ব্যবসা হিসেবে চেনেন। শুরু করতে কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে না — আজই শপ খুলুন।