Skip to content

ডেটা ও গ্রোথ

অনলাইন ব্যবসার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সেলস মেট্রিক যা নিয়মিত দেখবেন

· 3 মিনিটে পড়ুন

আপনার অনলাইন ব্যবসার বিক্রি বাড়ছে, কিন্তু ব্যবসা আসলে কতটা ভালো করছে তা কি বুঝতে পারছেন?

শুধু মোট বিক্রির পরিমাণ দেখলেই ব্যবসার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। কতজন আগ্রহী ক্রেতা অর্ডার করছেন, প্রতি অর্ডারে গড়ে কত টাকা আসছে এবং পুরোনো কাস্টমাররা আবার কিনছেন কি না, এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে পাঁচটি মেট্রিক সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

১. কনভার্সন রেট (Conversion Rate)

কনভার্সন রেট দেখায়, আপনার নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিজিটরের মধ্যে কতজন কাঙ্ক্ষিত কাজটি করেছেন। ইকমার্সে এটি সাধারণত অর্ডার সম্পন্ন করা ভিজিটরের অনুপাত বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

সূত্র:

কনভার্সন রেট = (অর্ডার সম্পন্ন করা ভিজিটর ÷ মোট ভিজিটর) × ১০০

উদাহরণ: এক মাসে আপনার ওয়েবসাইটে ১,০০০ জন ভিজিটর এলেন এবং ২০টি অর্ডার সম্পন্ন হলো। সরল হিসাব অনুযায়ী কনভার্সন রেট ২%।

কনভার্সন কম হলে পণ্যের তথ্য, দাম, পেমেন্ট প্রক্রিয়া এবং মোবাইল ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করুন।

২. গড় অর্ডার মূল্য (Average Order Value)

প্রতিটি অর্ডারে গড়ে কত টাকার বিক্রি হচ্ছে, তা বোঝায় এই মেট্রিক।

সূত্র:

গড় অর্ডার মূল্য = মোট বিক্রির মূল্য ÷ মোট অর্ডারের সংখ্যা

উদাহরণ: ৫০টি অর্ডার থেকে মোট বিক্রি ৫০,০০০ টাকা হলে গড় অর্ডার মূল্য ১,০০০ টাকা।

প্রাসঙ্গিক পণ্যের বান্ডেল বা উপযুক্ত অতিরিক্ত পণ্য দেখানোর মাধ্যমে গড় অর্ডার মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে কাস্টমারকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে চাপ দেবেন না।

৩. রিপিট কাস্টমার রেট (Repeat Customer Rate)

আপনার কাস্টমারদের কতজন একাধিকবার কেনাকাটা করছেন, তা বুঝতে এই মেট্রিক কাজে আসে।

সহজ সূত্র:

রিপিট কাস্টমার রেট = (নির্দিষ্ট সময়ে পুনরায় কেনাকাটা করা কাস্টমার ÷ ওই সময়ে কেনাকাটা করা মোট স্বতন্ত্র কাস্টমার) × ১০০

উদাহরণ: একটি মাসে ১০০ জন স্বতন্ত্র কাস্টমারের মধ্যে ২৫ জন আবার কেনাকাটা করেছেন। এই হিসাবের ভিত্তিতে রিপিট কাস্টমার রেট ২৫%।

একই সময়সীমা ও একই ধরনের হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করলে মাসে মাসে পরিবর্তন তুলনা করা সহজ হয়।

৪. অর্ডার বাতিল ও রিটার্নের হার

কত অর্ডার বাতিল হচ্ছে বা কত পণ্য ফেরত আসছে, তা পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

সহজ সূত্র:

অর্ডার বাতিলের হার = (বাতিল অর্ডার ÷ মোট অর্ডার) × ১০০

রিটার্নের হার আলাদাভাবে হিসাব করুন। এখানে মোট অর্ডারের পরিবর্তে মোট অর্ডার করা পণ্য বা সম্পন্ন ডেলিভারিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন কি না, সেটি স্পষ্ট রাখুন।

বাতিল ও রিটার্নের কারণ হিসেবে ভুল সাইজ, পণ্যের বিবরণে অমিল, ডেলিভারি সমস্যা বা কাস্টমারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নথিভুক্ত করুন।

৫. কাস্টমার অর্জনের খরচ (Customer Acquisition Cost)

নতুন কাস্টমার অর্জন করতে গড়ে কত টাকা খরচ হচ্ছে, তা বোঝায় Customer Acquisition Cost বা CAC।

সূত্র:

CAC = নির্দিষ্ট সময়ে নতুন কাস্টমার অর্জনের জন্য মোট খরচ ÷ অর্জিত নতুন কাস্টমারের সংখ্যা

উদাহরণ: নতুন কাস্টমার অর্জনের জন্য ১০,০০০ টাকা খরচ করে ৫০ জন নতুন কাস্টমার পেলে CAC হবে ২০০ টাকা।

খরচ হিসাবের ক্ষেত্রে কোন কোন মার্কেটিং ও বিক্রয়-সম্পর্কিত খরচ অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তা পরিষ্কার রাখুন। শুধু বিজ্ঞাপনের খরচ ধরলে সেটিকে বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক কাস্টমার অর্জনের খরচ হিসেবে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারেন।

কত ঘন ঘন এসব মেট্রিক দেখবেন?

  • সাপ্তাহিক: অর্ডার, বাতিল ও রিটার্নের পরিবর্তন
  • মাসিক: কনভার্সন রেট, গড় অর্ডার মূল্য ও রিপিট কাস্টমার
  • ক্যাম্পেইন শেষে: বিজ্ঞাপনের খরচ ও নতুন কাস্টমার অর্জনের খরচ

আপনার ব্যবসার আকার অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করুন। খুব অল্প ডেটার ওপর ভিত্তি করে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া এড়িয়ে চলুন।

শেষ কথা

ব্যবসার ডেটা নিয়মিত পর্যালোচনা করলে কোথায় উন্নতি দরকার, তা বোঝা সহজ হয়। প্রথমে এই পাঁচটি মেট্রিকের হিসাব রাখুন এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করুন।

নিজের অনলাইন ব্যবসাকে আরও গোছানোভাবে পরিচালনার জন্য Byapari সম্পর্কে জানুন: https://byapari.shop

আরও পড়ুন